ঢাকাTuesday , 3 November 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • সাজেকে অবরোধ ঘিরে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ৪৮ ঘণ্টার নতুন ঘোষণা

    admin
    November 3, 2026 10:06 pm
    Link Copied!

    নোমাইনুল ইসলাম,
    বাঘাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

    রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনসমৃদ্ধ সাজেকে চলমান সড়ক অবরোধ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পর্যটন সড়ক সচল করা এবং পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধের দাবিতে আগামী ৪ ও ৫ নভেম্বর টানা ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি। অন্যদিকে, পাঁচ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন। তবে চলমান অবরোধের মধ্যেও কৃষিপণ্য পরিবহন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীবাহী যানবাহন চলাচলে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠন দুটি।

    মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কর্মসূচি ও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সাজেকের পর্যটন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, শিক্ষা কার্যক্রম ও স্থানীয় জনজীবন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাজেকের পর্যটন সড়ক অবিলম্বে সচল করা এবং পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধের দাবিতে ৪ ও ৫ নভেম্বর শান্তিপূর্ণ ও সর্বাত্মক গণতান্ত্রিক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।

    সংগঠনটির দাবি, গত ১১, ১৫ ও ২২-২৩ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর কয়েক দফা অবরোধের কারণে সাজেকের পর্যটন সড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য, স্থানীয় অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে না পারায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় যানবাহন মালিক, চালক, শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আয়-রোজগারও বন্ধ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অস্ত্রের ভয় ও জরিমানার হুমকি দিয়ে সাধারণ মানুষকে অবরোধ পালনে বাধ্য করছে। নারী ও শিশু-কিশোরদের জোরপূর্বক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, অপহরণ ও খুনের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে তোলা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি জানিয়েছে, অবরোধ চলাকালে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসাসামগ্রী, গণমাধ্যম এবং জরুরি খাদ্যদ্রব্য বহনকারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে। দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।

    এদিকে, সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সভায় চলমান অনির্দিষ্টকালের অবরোধের আওতামুক্ত যানবাহনের তালিকা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহনও অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। বুধবার (৪ নভেম্বর) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

    সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাজেকের পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে কৃষক, কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সাজেকবাসীর পাঁচ দফা ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে যৌথ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    দুই সংগঠনের ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে, একদিকে অবরোধ প্রত্যাহার ও পর্যটন সড়ক সচল করার দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে পাঁচ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানে রয়েছে অবরোধকারী সংগঠনগুলো। ফলে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।

    সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সাজেকের সাধারণ বাসিন্দা, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পর্যটননির্ভর মানুষ। সড়ক যোগাযোগ দীর্ঘদিন ব্যাহত হলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে বিঘ্ন এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা সংকট আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সাজেকের সুনাম ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এ অবস্থায় অবরোধ ঘিরে সৃষ্ট সংকট নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিরোধের কারণে যেন স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জিম্মি হয়ে না পড়ে, সে জন্য দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST