জেলা প্রতিনিধি:
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের নবজাতকের বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্র (SCANU) থেকে তিন দিন বয়সী এক নবজাতক ছেলে সন্তান চুরির ঘটনার চার দিন পার হলেও এখনো শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি। গত ৯ অক্টোবর (শুক্রবার) রাত আনুমানিক ১১:৩০ টার দিকে হাসপাতালের ৪র্থ তলার ৩৮ নম্বর কেবিন সংলগ্ন বিশেষ পর্যবেক্ষণ ইউনিট থেকে সংগোপনে শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চুরির প্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজের দাবির সপক্ষে হাসপাতালের দেওয়া অফিসিয়াল ‘ব্রেস্ট ফিডিং পাস কার্ড’ (Breast Feeding Pass Card) গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করেছে। কার্ডটিতে শিশুর মায়ের নাম রোজিনা আক্তার, বাবার নাম জাহেদ আলম, শিশুর লিঙ্গ পুরুষ এবং পাস কার্ড রেজিস্ট্রেশন নম্বর ‘১০০৫’ ও রোগী রেজিস্ট্রেশন নম্বর ‘২৮৯১০/৭০’ উল্লেখ রয়েছে।
থানায় লিখিত অভিযোগ ও স্বজনদের ক্ষোভ:
শিশুর পিতা কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ার বাসিন্দা জাহেদ আলম গত ১০ অক্টোবর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ অক্টোবর নিজ বাড়িতে শিশুটির জন্ম হয়। পরবর্তীতে তীব্র গরমের কারণে শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ৪র্থ তলার স্ক্যানু বিভাগে ভর্তি করা হয়। ৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডিউটিরত ওয়ার্ড বয় ও নার্সদের যোগসাজশে শিশুটিকে সংগোপনে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে প্রকাশ করা হয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মা রোজিনা আক্তার বলেন, আমাদের কাছে হাসপাতালের অফিসিয়াল ব্রেস্ট ফিডিং কার্ড রয়েছে। এত সুরক্ষিত একটি সরকারি হাসপাতালের স্ক্যানু বিভাগের ভেতর থেকে কীভাবে শিশু চুরি হয়ে যায়? ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা স্টাফ ও নার্সদের অবহেলা বা সরাসরি যোগসাজশ ছাড়া এটা অসম্ভব। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমার কলিজার টুকরাকে কোল জুড়ে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর দাবি, ঘটনার দিন রাতে স্ক্যানু (SCANU) ইউনিটে ডিউটিতে থাকা চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ড বয়দের দ্রুত নিরপেক্ষ জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হোক এবং হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বিশ্লেষণ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
পুলিশ ও কর্তৃপক্ষ নীরব:
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি। তবে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ হাসপাতাল ও পরিবারের কাছ থেকে যাবতীয় কাগজপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করেছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: সুবক্তাগীন মাহমুদ সোহেল এর ব্যবহৃত ০১৮১৫৪১২৮১৯ মোবাইল নং এ যোগাযোগ করা হলে কোনো সাড়া মেলেনি, পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি।
এ বিষয়ে কথা বলতে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: মং টিন ঞো এর ব্যবহৃত ০১৭৪৯৩২০৬৩৯ মোবাইল নং এ যোগাযোগ করা হলে কোনো সাড়া মেলেনি, পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালে ক্ষুদে বার্তা দেখেও কোনো সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে কথা বলতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম এন্ড অপস্) মো: অহিদুর রহমান, পিপিএম এর ব্যবহৃত ০১৩২০১০৮৪০৩ মোবাইল নং এ যোগাযোগ করা হলে কোনো সাড়া মেলেনি, পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো সাড়া মেলেনি।
উল্লেখ্য, গত এক মাসের ব্যবধানে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে দুটি নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটলো। এছাড়া লিফটের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়া ও নানা অনিয়মের অভিযোগে হাসপাতালটির সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কক্সবাজারের সচেতন নাগরিক সমাজের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে দীর্ঘদিন ধরে তারপরও অপারগ হয়ে সেবা নেওয়ার জন্য মানুষ সেখানে যাচ্ছে।


