কৃষি প্রতিবেদন
কৃষিতে ফলন বৃদ্ধি ও নতুন জাত উদ্ভাবনে আরও একটি সাফল্য যোগ হলো।
উচ্চ ফলনশীল, বারমাসি এবং বীজবিহীন নতুন লেবুর জাত ‘বিনালেবু-১’ উন্মুক্ত করেছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)। নতুন এ জাতটি সারা দেশে চাষাবাদ করে লাভবান হওয়ার বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে কৃষকদের জন্য।
উদ্ভাবনের পটভূমি
বিনাগবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ভিয়েতনাম থেকে ‘বিনালেবু-১’-এর জার্মপ্লাজমটি সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে বিনা-র প্রধান কার্যালয়ে বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কৌলিক সারি CL-021 হিসেবে এটিকে শনাক্ত করা হয়। বিনা-র উপকেন্দ্রগুলোতে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এটিকে একটি অগ্রবর্তী লাইন হিসেবে নির্বাচন করা হয়।
এরপর বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবেশগত উপযোগিতা ও ফলন পর্যবেক্ষণ করে ২০১৮ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক কৃষকদের চাষাবাদের জন্য ‘বিনালেবু-১’ নামে নিবন্ধিত হয়।
বিনালেবু-১ এর বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্ব
বারমাসি ফলন: এ জাতের গাছে বছরজুড়ে লেবু আসে।
বীজবিহীন ও জুস সমৃদ্ধ: লেবুগুলো সম্পূর্ণ বীজবিহীন, যা ভোক্তাদের নিকট অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং এতে রস বা জুসের পরিমাণও বেশি।
প্রচুর উৎপাদন: একটি প্রাপ্তবয়স্ক গাছে বছরে প্রচুর পরিমাণে ফল পাওয়া যায়, যা সাধারণ জাতের লেবুর চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক।
চাষাবাদ ও পরিবেশগত উপযোগিতা
‘বিনালেবু-১’ চাষের জন্য পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা আছে এমন উঁচু দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটি উপযোগী।
বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই এ জাতের চাষ করা সম্ভব। কলমের চারা রোপণের ১-২ বছরের মধ্যেই ফল আসা শুরু করে। সঠিকভাবে পরিচর্যা ও সার প্রয়োগ করলে কৃষক এতে বাম্পার ফলন পেতে পারেন।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বীজবিহীন ও সারা বছর সরবরাহযোগ্য লেবুর চাহিদা বাজারে সব সময়ই বেশি। ‘বিনালেবু-১’ জাতটি মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয় করা গেলে একদিকে যেমন লেবুর চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে, তেমনি লেবু চাষিরা ভালো দাম পেয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।


