রতন রায়, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় ২০২৫ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত এবং বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া ২২ জন কৃতি শিক্ষার্থীদেরকে সংবর্ধনা জানানো হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ৩নং রাজারহাট ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও ইউনিয়ন পরিষদের সৌজন্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব মোঃ আল ইমরানের প্রধান অতিথিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ৩নং রাজারহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোঃ আশাদুল হক।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মো: শাহজাহান আলী এবং শ্রীমৎ ভাগবত গীতা পাঠ করেন কাজল চন্দ্র রায় নামক এক ইউপি সদস্য। সকল শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ইউপি সদস্যবৃন্দ ও অতিথিগণ। শহিদুল ইসলাম ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য: উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ আল ইমরান শিক্ষার্থীদের অর্জনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “তোমাদের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি পুরো রাজারহাট উপজেলার গর্বের বিষয়। এই অর্জন ধরে রাখতে এবং উচ্চশিক্ষায় আরও সাফল্য অর্জন করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।” তিনি ভবিষ্যৎ জীবনে সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক গুণাবলী ধারণ করার পরামর্শ দেন।
ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক মোঃ আশাদুল হক বলেন, “আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মেধা ও শ্রম দেশের উন্নয়নে কাজে লাগবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”
পাইলট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: আশরাফুল আলম শিক্ষার্থীদেরকে মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান।
রাজাহাট উপজেলা প্রেসক্লাব, সভাপতি আনিসুর রহমান লিটন ও অভিভাবক তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন আপনাদের আজকে যারা সংবর্ধনা দিয়েছেন ভবিষ্যতে তোমরা আগামী প্রজন্মকে এভাবেই উজ্জীবিত করবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রহমত আলী বলেন, “জিপিএ-৫ ধরে রাখতে হবে, হতাশ হয়ে ছিটকে পড়া যাবে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোঃ গোলাম রসূল রাখি বলেন, “সাফল্যের সাথে দায়িত্বও বেড়েছে, পড়াশোনার মাধ্যমে নিজের জীবনকে পরিবর্তন করতে হবে।
রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো: নাজমুল আলম শিক্ষার্থীদেরকে গ্লোবালি চিন্তা করার পরামর্শ দেন।
সংবর্ধনা পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থী মোহসোনা আক্তার মিম বলেন, “বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে হবে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।”
শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের এই সাফল্যের পেছনে পিতা-মাতা এবং শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পেয়ে আমরা আরও অনুপ্রাণিত হলাম।”
অভিভাবক ও রাজারহাট উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ কফিল উদ্দিন বলেন, “জিপিএ-৫ শুধু শেষ লক্ষ্য নয়, চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতেই হবে।”
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। এছাড়াও তাদের জন্য ছিল বিশেষ উপহার।
উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষকমণ্ডলী, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


