মোঃ মাসুম বিল্লাহ্ বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলী পৌরসভার বহুল আলোচিত সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত ও হুমকির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি বরগুনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি ও দৈনিক কালবেলার আমতলী প্রতিনিধি। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে আমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডি নম্বর-১২৬৪। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে পৌর কার্যালয়ের সামনের লেকে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের ঢালাইয়ের একটি অংশ রডের চালিসহ দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক মনিরুল। ভিডিও ধারণ শুরু করলে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মশিউর রহমান ও ঠিকাদারের সহযোগী মো. পানু মোল্লাসহ সংশ্লিষ্টরা তার কাজে বাধা দেন। এ সময় ক্যামেরা-মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। ঢালাইয়ের অংশ দেবে যাওয়ার পর স্থানীয়দের অভিযোগ, ধসে পড়া অংশ পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্সের মালিক মো. খাইরুল আজাদ দাবি করেন, তার লাইসেন্স ব্যবহার করা হলেও প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান। তবে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, মূল পিলারে সমস্যা হয়নি; সেন্টারিংয়ের সাপোর্ট খুলে যাওয়ায় ঘটনাটি ঘটেছে।
আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামও বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সাংবাদিককে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও হুমকির ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিন্দা দেখা দিয়েছে।


