জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব গভীর সমুদ্রে বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ১০ হাজার কেজি অবৈধ ইউরিয়া সার, একটি পাচারকারী বোট এবং ৯ জন পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে এসব সার বহন করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। রবিবার ১ লা নভেম্বর ২০২৬ দুপুরে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অভিযানের বিবরণ:
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, দেশের সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা ও চোরাচালান রোধে নিয়োজিত বিশেষ অপারেশন ‘সাগর সুরক্ষা’-র অংশ হিসেবে গত ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে রাত ২টায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব গভীর সমুদ্র এলাকায় একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড জাহাজ।
অভিযান চলাকালীন সন্দেহজনক একটি বোটকে থামার সংকেত দেয় কোস্ট গার্ডের আভিযানিক দল। কিন্তু বোটটি সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কোস্ট গার্ড সদস্যরা সাহসিকতার সাথে ধাওয়া করে গভীর সমুদ্র থেকে বোটটিকে ঘেরাও করে আটক করতে সক্ষম হন।
জব্দকৃত মালামাল ও আটক ব্যক্তিরা:
পরবর্তীতে সন্দেহজনক ওই বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ১০ হাজার কেজি (১০ মেট্রিক টন) ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়। এ সময় চোরাচালানে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জন পাচারকারীকে আটক করা হয় এবং পাচারকাজে ব্যবহৃত বোটটি জব্দ করা হয়।
আইনানুগ ব্যবস্থা ও কোস্ট গার্ডের বক্তব্য:
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, জব্দকৃত ইউরিয়া সার, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট এবং আটককৃত ৯ জন পাচারকারীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও যেকোনো ধরনের চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



