সামিনুর ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নালার পাড় গ্রামে পুকুর থেকে খাদিজা নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় আহের আলীর ছেলে ফেরদৌস (১৭) ও মিস্টার রহমান এর ছেলে রিপন আলী (১৫) এবং মিস্টার রহমান সহ পুকুরের পানির ছয় ফুট নিজ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিশু খাদিজার নিথর দেহ বাড়ির আঙিনায় একটি ছোট খাটের ওপর রাখা হয়েছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় ও সরগরম বাড়তে থাকে।
ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, শিশুটি তার মায়ের সাথে ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন তৈরি করতে যাওয়ার জন্য মা মেয়ে সাজু গুজু করে বেড় হয়ে দেখতে পায় খাদিজা সেখানে নেই তখন তার মা রেজিনা বেগম চারদিকে খোজাখুজি করে না পেয়ে
তার দাদুর বাড়ির দিকে মেয়ে খোঁজে যান,উপায়ন্তর না আবার বাবার বাড়িতে আসেন এদিকে এলাকা বাসী বাড়ির পাশে বোমা মেশিন দিয়ে খোড়া পুকুরে এলাকার চার পাচজনকে পুকুর নেমে পানির নিজ থেকে উদ্ধার করে জ্বিন দৃষ্টি কারণ পুকুরে পড়ে মারা গেছে বলে তাদের ধারণা। তবে গ্রামবাসীর দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত কথা বলেছেন শিশুটির বাবা আজহারুল হক তিনি কর্মের জন্য ঢাকায় রাজমিস্ত্রী কাজ করে বলে জানা যায় । তার অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটির মা-ই তাকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে রেখেছেন।
ঘটনার বিস্তারিত জানতে শিশুটির চাচার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, গত প্রায় দুই মাস ধরে খাদিজার বাবা ও মায়ের মধ্যে তীব্র পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এ কারণে শিশুটির মা খাদিজাকে নিয়ে বাবার বাড়ি (মেয়ের নানার বাড়ি) বসবাস করছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। পুকুরে পড়ে শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। থানা পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে থানা পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে অপমৃত্যু মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন আছে। মৃত্যু শিশুটির পিতা ঢাকা থেকে আসতেছে পিতার বক্তব্য শুনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


