ঢাকাThursday , 15 October 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • ফাঁসিয়াখালীতে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

    admin
    October 15, 2026 6:04 pm
    Link Copied!

    জেলা প্রতিনিধি বান্দরবান ঃ

    বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের মালুম্যা ও বগাইছড়ি এলাকায় বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে পাহাড়, ছড়া ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এলাকার বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে বালু তোলা হচ্ছে। এ কার্যক্রমের বৈধতা, উত্তোলনকারীদের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
    এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বালু ব্যবসায়ীর দাবি, বালু উত্তোলনের ব্যবসা চালাতে মাসে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়। তবে ওই অর্থ কাকে, কী কারণে দেওয়া হয়, এর পক্ষে কোনো নথি বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ রয়েছে কি না—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
    পুরোনো অভিযোগ, এখনো উদ্বেগ
    স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, ফাঁসিয়াখালীর মালুম্যা, বগাইছড়ি ও আশপাশের এলাকায় বালু উত্তোলন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। অতীতেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসব এলাকায় বালু উত্তোলন ও পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
    স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু এলাকায় পাহাড় বা টিলার অংশ কেটে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে পাহাড়ের স্থিতিশীলতা, ছড়া-খালের স্বাভাবিক প্রবাহ এবং আশপাশের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে বর্তমানে কতটি স্থানে বালু উত্তোলন চলছে, কতটুকু পাহাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা সরেজমিন তদন্ত ও সরকারি নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
    মাসে ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ
    এক বালু ব্যবসায়ীর দাবি, বালু উত্তোলনের ব্যবসা পরিচালনা করতে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়। তবে তিনি কাকে বা কোন পক্ষকে এই অর্থ দেওয়ার কথা বলেছেন, তা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
    অভিযোগটি সত্য হলে অর্থের উৎস, গ্রহণকারী, লেনদেনের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অর্থ গ্রহণের সঙ্গে জড়িত বলে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।
    অভিযোগে কয়েকজনের নাম
    স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের বক্তব্যে সোনা মিয়া ওরফে ‘বালু সোনা’, আব্দুল হাকিম, আবুল হোসেন ও শাহারিয়ার আলমের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মালুম্যা ও বগাইছড়ি এলাকায় বালু উত্তোলন কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
    তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বালু উত্তোলনের বৈধ অনুমোদন, ইজারা বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা জরুরি।
    প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন
    স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। মালুম্যা ও বগাইছড়িতে বর্তমানে কতটি স্থানে বালু উত্তোলন চলছে, সেসব স্থানের অনুমোদন বা ইজারা রয়েছে কি না এবং পাহাড় বা টিলার অংশ কেটে বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
    এ ছাড়া অবৈধ উত্তোলন বন্ধে আগে কোনো অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকলে তার পরবর্তী পরিস্থিতি কী, পুনরায় উত্তোলন শুরু হয়েছে কি না এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, তাও যাচাই করা দরকার।
    স্থানীয়দের দাবি, লামা উপজেলা প্রশাসন, বান্দরবান জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে বিষয়টি তদন্ত করুক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
    বৈধতা যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি
    বালু উত্তোলন বৈধ না অবৈধ, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানের ইজারা, অনুমোদন, সীমানা, উত্তোলনের পদ্ধতি এবং প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাহাড়, টিলা, ছড়া ও খালের ক্ষতির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করা জরুরি।
    মাসোহারা দেওয়ার দাবি এবং কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। তাই অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্তের পরিবর্তে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তই হওয়া উচিত প্রধান পদক্ষেপ।
    এ অনুসন্ধানের পরবর্তী পর্বে বালু উত্তোলনের নির্দিষ্ট স্থান, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, ইজারা ও অনুমোদনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST