মো:ফারুক আহমেদ (টাঙ্গাইল)
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের অজ্ঞাতসারে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার এলাকা ৯ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে নাম প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ভোটার ও এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ভূঞাপুর নির্বাচন অফিসের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুপুর, বেতুয়া ও পশ্চিম কুতুপুর এলাকার ভোটার ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগকারীদের দাবি, ১ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক ভোটারের অজ্ঞাতসারে ও সম্মতি ছাড়া তাঁদের ভোটার এলাকা ৯ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত কাগজপত্র ও তথ্য যাচাই করে অন্তত ছয়জন ভোটারের এমন ঘটনার শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় আরও কোনো ভোটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন—দেলোয়ার হোসেন (দুলাল), জাহাঙ্গীর আলম, জয়নুর রহমান, কবির উদ্দিন, নূরুল আমিন ও আব্দুল খালেক। তাঁদের ভোটার এলাকা স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত আবেদনপত্র, স্বাক্ষর ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ইতোমধ্যে ভূঞাপুর থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী হিসেবে রয়েছেন মো. নূরুল আমিন ও আব্দুল খালেক। এ ছাড়া বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসন, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে বলে আবেদনকারীরা জানিয়েছেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ভোটার তালিকায় কোনো ধরনের জালিয়াতি বা অনিয়ম হয়ে থাকলে তা গণতান্ত্রিক অধিকার ও নির্বাচনব্যবস্থার স্বচ্ছতার জন্য উদ্বেগজনক। একজন ভোটারের অজান্তে তাঁর ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন না করে কাউকে দায়ী করা উচিত নয় বলেও তাঁরা মত দেন।
তাঁদের দাবি, ভোটার এলাকা স্থানান্তরের জন্য জমা দেওয়া আবেদনপত্র, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাক্ষর, পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে হবে। তদন্তে জালিয়াতি বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি যেসব ভোটারের ভোটার এলাকা অনিয়মের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে প্রমাণিত হবে, তাঁদের পূর্বের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা পুনর্বহালের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, তাঁরা কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করতে চান না। তাঁদের মূল দাবি হলো-অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। একই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অভিযোগকারীদের অবহিত করারও দাবি জানান তাঁরা।


