জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার
“রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” – এই প্রতিবাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজন ও ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে সূচিত হয়েছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬। রবিবার সকালে পর্যটন নগরীর হোটেল শৈবাল প্রাঙ্গণে বেলুন উড্ডয়ন, বর্ণাঢ্য র্যালি ও শৈবালের দীঘিতে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ অবমুক্তকরণের মাধ্যমে দুই সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
পরে হোটেল শৈবালের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে এক বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অপরিসীম। দেশের অর্থনৈতিক ভিতকে আরও শক্তিশালী করতে মৎস্য খাত থেকে রপ্তানি আয় বাড়িয়ে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি চাষ ও রপ্তানির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সমুদ্র সম্পদের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে কক্সবাজার মৎস্য সেক্টরে অভূতপূর্ব সাফল্যের দৌড়গোড়ায় রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে কক্সবাজারই হবে দেশের ‘ব্লু-ইকোনমি’ বা সমুদ্র অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ও রাজধানী। দেশের এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের অংশীদার হতে পেরে কক্সবাজারবাসী সত্যি গর্বিত ও ভাগ্যবান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক মো: আনোয়ার হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণ অঞ্চলের উপ পরিচালক অধীর চন্দ্র দাস এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: নাজমুল হুদা। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে মৎস্য সম্পদের আধুনিকায়ন, আধুনিক প্রযুক্তি ভিত্তিক চাষাবাদ এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: নাজমুল হুদা তাঁর বক্তব্যে জেলার সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মৎস্য উৎপাদনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, অবৈধ মৎস্য শিকার রোধ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে মৎস্য বিভাগ নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক মোস্তফা কামালসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হ্যাচারি মালিক, প্রান্তিক মৎস্য চাষী, আড়তদার এবং মৎস্য খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিপুল সংখ্যক পেশাজীবী উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে জেলায় আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য খাতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ ৪ জন সফল মৎস্য চাষী ও উদ্যোক্তার হাতে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।


