নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ এবং কলেজের টাকায় কেনা জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এসব ঘটনায় প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন।
অনুসন্ধান তথ্য অনুযায়ী, হাফিজুর রহমান ২০০১ সাল থেকে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর এলাকার এমপিওভুক্ত এবিসিডি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
অন্যদিকে, ২০০৪ সাল থেকে তিনি মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজের ‘প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মনোহরপুর কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজে এমপিওভুক্তির আশ্বাস ও নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে আনুমানিক দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হওয়ার আগপর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিন বিনা বেতনে কাজ করতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
কলেজের জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রির অভিযোগ
নিয়োগ বাণিজ্যের পাশাপাশি কলেজের জমির মালিকানা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, খোরশেদ গংদের কাছ থেকে কলেজের তহবিলের অর্থ দিয়ে জমি কেনা হলেও তা প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রি না করে নিজের নামে লিখে নেন তিনি।
পরবর্তীতে ওই জমি কলেজের নামে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ধারাবাহিকভাবে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এইচএসসি পরীক্ষার ফি আত্মসাতের অভিযোগ
এ ছাড়া ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় কলেজের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষার বোর্ড ফি বাবদ আদায় করা প্রায় চার লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়োগসংক্রান্ত এসব অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা।


