জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজার জেলার প্রশাসন কর্তৃক যতই প্রস্তুতির কথা বলা হোক না কেন, বাস্তবতা আর প্রস্তুতির মধ্যে বিশাল যে পার্থক্য তা আবারও পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, উখিয়ায় ইনানীস্থ টুপটুপ রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্ট এর অগ্নিকাণ্ড। জেলার কোন একটা ডিপার্টমেন্ট ও যে পর্যটন এবং পর্যটকদের রক্ষায় পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, এটা তার প্রমাণ ।কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে আজ সকালে। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার হওয়া নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের আটজন সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত এলাকার ওই রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। পুরো স্থাপনাটি কাঠে নির্মিত হওয়ায় মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর প্রথম দফায় রিসোর্টের ভেতর থেকে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে টয়লেটের ভেতর থেকে আশ্রয় নেওয়া আরও ৪ জনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম জানান, “প্রথম দফায় ছয়জনের মরদেহ এবং পরবর্তীতে টয়লেটের ভেতর থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের আটজন রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে রিসোর্টে উদ্ধার অভিযান ও তল্লাশি প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে।”
কীভাবে আগুনের সূত্রপাত?
টুপটুপ রিসোর্টের ইনচার্জ মো. সুমন জানান, সকালে রিসোর্টের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে রিসোর্টের কর্মচারীরা শুরুতেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে এরই মধ্যে রিসোর্টের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল সাতটার দিকে সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন রিসোর্টটি থেকে পরপর কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে যান, তবে কাঠের তৈরি তিনতলা ভবন হওয়ায় ততক্ষণে আগুন চারদিকে দ্রুত গ্রাস করে নেয়। নয়টি কক্ষবিশিষ্ট পুরো রিসোর্টটি আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
৪ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে:- খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন পুলিশ, বিজিবি এবং এসআরবি (SRB)-র সদস্যরা। যৌথ প্রচেষ্টায় দীর্ঘ চার ঘণ্টা পর বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন:-
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, প্রাণহানির সুনির্দিষ্ট কারণ এবং রিসোর্টটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং দায় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।


