নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের সদর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ১৩৫ নম্বর পাঁচবাড়িয়া বালিয়াডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম ও চরম শিক্ষক-উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আয়ার বেতনের নামে টাকা আদায় এবং নিয়মিত পানি ও বিদ্যুৎ অপচয়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আয়া বাবদ বাৎসরিক ১৬০ টাকা করে আদায় করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৯০ থেকে ২০০ জন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের ফি আদায় সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত হলেও তা প্রকাশ্যে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোকেয়া খাতুন টাকার বিষয়টি স্বীকার করে জানান,
”আমাদের বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী বা পিয়ন নেই। তাই কাজের সুবিধার্থে একজন আয়া রাখা হয়েছে। তাকে বেতন দেওয়ার জন্যই রেজুলেশন করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে (১৬০) এই টাকা নেওয়া হয়।”
সম্প্রতি সকাল ৯:৩৫ মিনিট থেকে ৯:৫৫ মিনিট পর্যন্ত এক টানা বিদ্যালয়ের পানির ট্যাংকি উপচে পানি পড়তে দেখা যায়। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৩ জন শিক্ষক তখন অফিস কক্ষে বসে থাকলেও বিষয়টি তারা খেয়াল করেননি।
পানি পড়ার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মুন্না জানান,তারা এভাবেই মটর ছেড়ে দিয়ে আর বন্ধ করে না প্রায়ই এ ভাবে পানি পরতে দেখি।
পাশের দোকানদার তুহিন বলেন, মাঝে মধ্যেই তাদের এমন ভুল হয় পানি ছেড়ে দিয়ে আর খেয়াল থাকেনা।
সকালে এসে পানির লাইন ছেড়ে স্কুল পরিষ্কার করার পর হয়তো ভুলবশত বন্ধ করতে মনে ছিল না—এমন ব্যাখ্যা দিয়ে প্রধান শিক্ষক দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও সচেতন এলাকাবাসী এটিকে চরম অসচেতনতা ও সরকারি সম্পদের অপচয় হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাহিদ আক্তার বলেন,স্কুলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আয়ার বেতন বাবদ ১৬০ করে নিচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি সম্পর্কে অবগত না।বিষয় টি জানতে হবে। পানির বিষয় জানতে চাইলে বলেন আসলেই এটা অপচয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধ টাকা তোলা বন্ধ করা হোক এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

