নিজস্ব প্রতিবেদক
বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ফ্লেভারের চালানের আড়ালে বিপুল পরিমাণ ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য খালাসের চেষ্টা ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। রোববার রাতে বন্দরের ১৪ নম্বর শেডের সামনে থেকে একটি কাভার্ড ভ্যানসহ এসব পণ্য জব্দ করা হয়।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রেড গ্রীন ইন্টারন্যাশনাল ভারত থেকে ২৫ প্যাকেজে ৫০০ কেজি বাটার ফ্লেভার আমদানি করে। চালানটির খালাসের দায়িত্বে ছিল বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স আহাদ এন্টারপ্রাইজ। প্রাথমিক কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের মিল পাওয়ার পর পরীক্ষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী শুল্কায়ন সম্পন্ন করা হয়।
পরে ঘোষিত ফ্লেভারের সঙ্গে অতিরিক্ত পণ্য খালাসের গোপন সংবাদ পেয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের গোয়েন্দা সংস্থা আইআরএম অভিযান চালায়। এ সময় ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৬৫৪১ নম্বরের কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, গাড়িচালক ও বন্দরের শ্রমিকদের উপস্থিতিতে গাড়ির তালা খুলে ৬৭টি প্যাকেজে বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়।
জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ২৫টি প্লাস্টিক জারে ৫০০ কেজি ফ্লেভার, ২৫ কার্টনে ১ লাখ ৯৪ হাজার পিস ডিসপোভান সিরিঞ্জ, দুই কার্টনে ১১০ দশমিক ৭৭ কেজি ইমিটেশন পণ্য, পাঁচ কার্টনে ৩০৩টি শাড়ি, ১৪টি ওড়না, ১০টি কামিজ, ৯টি সালোয়ার, ৩৮টি থ্রিপিস, ১৭৯টি টি-শার্ট, ১২২টি প্যান্ট এবং আটটি ড্রামে ২০০ কেজি পাউডার।
কাস্টমস সূত্র আরও জানায়, ঘোষণাবহির্ভূত পণ্যগুলো এর আগে বন্দরের ১২ নম্বর শেড থেকে কাভার্ড ভ্যানে তোলা হয়েছিল। এ চালানে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দাবি, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মেসার্স আহাদ এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘোষিত ফ্লেভারের সঙ্গে থাকা ঘোষণাবহির্ভূত পণ্যসহ কাভার্ড ভ্যানটি আটক করা হয়। এ চালানে প্রায় ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।


