ঢাকাWednesday , 29 July 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • ভোটাধিকার হরণ ও দাপ্তরিক জালিয়াতি: উখিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিতর্কিত কমিটি বাতিলের দাবিতে অভিভাবকদের চরম ক্ষোভ

    admin
    July 29, 2026 6:18 pm
    Link Copied!

    জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার

    কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার তুতুরবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (SMC) গঠন কেন্দ্র করে সরকারি আইন ও নীতিমালা ভঙ্গের এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। অভিভাবক সমাবেশে সরকারি শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই তালিকা ছিঁড়ে ফেলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রভাব বিস্তার এবং পরবর্তীতে অনিয়ম ঢাকতে পূর্বের তারিখে ভুয়া তফসিল দেখানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

    ঘটনার প্রতিবাদে ও বেআইনিভাবে গঠিত পকেট কমিটি বাতিল করে সরকারি বিধি অনুযায়ী স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দাবিতে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকবৃন্দ।

    যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত: প্রকাশ্য সভায় তালিকা ছিঁড়ে চরম বিশৃঙ্খলা
    অভিযোগপত্র ও স্থানীয় অভিভাবক সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে তুতুরবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এক অভিভাবক সমাবেশ ও কমিটি গঠনের জন্য উপস্থিত থাকার জন্য অভিভাবকদের আহ্বান জানান। উক্ত সমাবেশে উখিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব আশরাফুল আলম সিরাজী উপস্থিত ছিলেন।

    তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রাক-ঘোষিত কোনো নির্বাচনী তফসিল প্রকাশ না করেই শিক্ষা কর্মকর্তা উপস্থিত অভিভাবকদের মধ্য থেকে পুরুষ, মহিলা ও শিক্ষা অনুরাগী পদে আগ্রহী প্রার্থীদের নাম জমা দিতে বলেন। সে অনুযায়ী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ কায়ছার উদ্দিন একটি খাতায় অভিভাবকদের প্রস্তাবিত নাম লিপিবদ্ধ করছিলেন।

    ঠিক সেই মুহূর্তে এনআরবিসি (NRBC) ব্যাংক রামু শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত জামাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি উপস্থিত অভিভাবক, গণমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষা কর্মকর্তার সামনেই তালিকাটি ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। এতে সভার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়, চরম হট্টগোল ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং অনেক অভিভাবক সভা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।

    আমাদের উপস্থিতিতে তৈরি করা তালিকা হঠাৎ করে জামাল উদ্দিন সাহেব ছিঁড়ে ফেললেন এবং নিজ হাতে ১২ জনের তালিকা লিখে শিক্ষা অফিসারকে হুমকি দিলেন। আমরা সাধারণ অভিভাবকরা ভয়ে প্রতিবাদ পর্যন্ত জানাতে পারি নাই।-অভিযোগকারী অভিভাবক

    শিক্ষা অফিসারকে অবরুদ্ধ করার হুমকি ও ‘পকেট কমিটি’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা
    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিভাবক সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার পর ব্যাংক কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন নিজেই ১২ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করেন। এরপর উক্ত ১২ জনকেই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে মর্মে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও প্রধান শিক্ষককে ধমকাতে থাকেন। এমনকি নিজের লিখিত তালিকার বাইরে অন্য কাউকে কমিটিতে না নিলে শিক্ষা অফিসারকে স্কুল ভবন থেকে বের হতে দেওয়া হবে না বলেও সরাসরি হুমকি প্রদান করেন।

    পরবর্তীতে ওই ব্যাংকারের নির্দেশ ও হাতে লেখা তালিকা অনুযায়ীই ম্যানেজিং কমিটির ফরম ও কাগজপত্র তৈরি করতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার, যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন।

    দাপ্তরিক জালিয়াতি: ব্যাক ডেটে তফসিল সাজানোর অভিযোগ
    সমাবেশে উপস্থিত একাধিক অভিভাবক জানান, গত ৯ জুলাইয়ের ঘটনার পর বিতর্ক ঢাকতে ও নিজেদের বেআইনি পদক্ষেপ বৈধ করতে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং প্রধান শিক্ষক যোগসাজশ করে গোপনে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ দেখিয়ে ব্যাক ডেটে (Back-date) ভুয়া তফসিল নথিভুক্ত করেন।

    অভিভাবকদের মতে, “যেখানে ৯ জুলাই সভার দিন কোনো তফসিল ছিল না এবং প্রকাশ্যে খাতা ছিঁড়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হলো, সেখানে হঠাৎ ৩০ জুনের তফসিল কীভাবে ফাইলভুক্ত হয়? এটি সুস্পষ্ট প্রশাসনিক জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার।”

    আইনি বিশ্লেষণ ও নীতিগত প্রতিবন্ধকতা :-
    ১. SMC নীতিমালা-২০১৯ লঙ্ঘন :-
    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী স্বচ্ছ তফসিল ঘোষণা না করে এবং অভিভাবকদের ভোটাধিকার হরণ করে পকেট কমিটি গঠনের কোনো আইনি সুযোগ নেই।

    ২. ব্যাংক কর্মকর্তার ‘স্বার্থের দ্বন্দ্ব’ (Conflict of Interest) ও চাকরির বাধ্যবাধকতা :- এনআরবিসি ব্যাংকের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন ব্যাংকারের চাকরি স্থানান্তরণযোগ্য (চট্টগ্রাম, সিলেট বা অন্য যেকোনো দূরত্বে বদলিযোগ্য)। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মতো দায়িত্বশীল পদে এমন ব্যক্তি থাকলে নিয়মিত মিটিংয়ে উপস্থিত থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা শিক্ষার মান ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে।

    ৩. সরকারি কাজে বাধা ও ফৌজদারি অপরাধ :- ব্যাংক কর্মকর্তা কর্তৃক সরকারি শিক্ষা অফিসার ও প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করার হুমকি প্রদান এবং সরকারি সভার খাতা ছিঁড়ে ফেলা সরকারি কাজে বাধা দানের শামিল। এছাড়া ব্যাক ডেটে সরকারি নথি প্রস্তুতের বিষয়টি পেনাল কোড ও চাকরিবিধির গুরুতর লংঘন।

    স্থানীয়দের দ্রুত তদন্ত ও নতুন নির্বাচনের দাবি, তুতুরবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সচেতন অভিভাবকবৃন্দ জানান, বিগত ২০১৮ ও ২০২১ সালেও গণতান্ত্রিক নিয়মে নির্বাচনের মাধ্যমেই অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয়েছিল।

    লিখিত আবেদনকারী জাহির আহমদ (০১৮১৭২৬…), নুরুল আকছার, মাহমুদুল হক ও মো. হাছুন সহ অভিভাবকগণ অবৈধ কমিটি গঠন প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিয়ম মেনে নতুন তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিকট জোর আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST