এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়ায় বলপ্রয়োগ পূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ‘ইউএনএইচসিআর’ এর শুভেচ্ছা দূত, জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান।
আজ বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬ তারিখ সকালে তিনি উখিয়ার কুতুপালংস্থ ১-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান তিনি । সেখানে তিনি ক্যাম্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
ক্যাম্পের একটি কমিউনিটি সেন্টারে রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণীদের সাথে এক বিশেষ ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় অংশ নেন তাহসান। এ সময় রোহিঙ্গা যুব সমাজ তাদের বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা, বিভিন্ন সংকট ও নানা অভিজ্ঞতার কথা তাঁর সামনে তুলে ধরেন। তাহসান খান অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
তাহসান খানকে স্বাগত জানিয়ে মনজুর আল হাসান নামে এক রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন:- গুডউইল অ্যাম্বাসেডর তাহসান খানের এই সফর আমাদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আলোচনায় রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। মর্যাদা ও সহমর্মিতার সাথে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্বকে এই সফর আবারও পুনর্ব্যক্ত করল।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তাহসান খানের এই ক্যাম্প পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দিনব্যাপী ক্যাম্পের বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে বিকেলে কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে আসার কথা রয়েছে তাহসানের। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
বর্তমানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। শুরু থেকেই জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর মানবিক সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর ও তাদের মানবিক সংকটের কথা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে ইউএনএইচসিআরের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন তাহসান খান। এর ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে সংস্থাটি তাঁকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশের জন্য তাদের ‘গুডউইল অ্যাম্বাসেডর’ বা শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়।


