মোঃ আবু তৈয়ব, হাটহাজারী, (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :
সাম্প্রতিক অতিবর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসের ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদে সৃষ্ট ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম (হাটহাজারী মাদরাসা)এর মুহতামিম আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী।
শনিবার (১৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেশের বিত্তবান, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সর্বস্তরের সামর্থ্যবান নাগরিকের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “গত কয়েক দিনের অতি বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অসংখ্য পরিবার তাদের বসতবাড়ি হারিয়েছে, ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফসলি জমি, গবাদিপশু, রাস্তাঘাট এবং মানুষের জীবিকা। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি; বরং পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বহু পরিবার এখনো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, পোশাক ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে। যাদের বসত ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, পরিবারের বৃদ্ধ, নারী ও শিশু সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এ অবস্থায় বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল মানবিক দায়িত্বই নয়, বরং প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ঈমানী কর্তব্যও বটে”।
বিপদগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় ইসলামের নির্দেশনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে পরস্পর সহযোগিতা করো।’ (সূরা আল-মায়িদাহ- ২)। অন্য আয়াতে তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা যে সম্পদই আল্লাহর পথে ব্যয় করবে, তিনি তার উত্তম প্রতিদান দেবেন।’ (সূরা সাবা- ৩৯)। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব কষ্টসমূহের মধ্য থেকে একটি কষ্ট দূর করে দেয়, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করে দেবেন। আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে।’ (সহীহ মুসলিম)। অপর হাদীসে এসেছে, ‘দয়াশীলদের প্রতি পরম দয়াময় আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া করো, আসমানের অধিপতি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ (সুনানে আবূ দাউদ, জামে তিরমিযী)।”
তিনি আরও বলেন, “দারুল উলূম হাটহাজারী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জাতীয় দুর্যোগ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও মানবিক সংকটে দেশবাসীর পাশে থাকার চেষ্টা করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি ত্রাণসহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহায়তার লক্ষ্যে মাদরাসার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘আল-মুঈন ত্রাণ তহবিল’-এর মাধ্যমে অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা যার যার সাধ্যমতো আল মুঈন ত্রাণ তহবিলে শরীক হয়েছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতার কারণে সমাজের সর্বস্তরের সামর্থ্যবান মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা আজ অত্যন্ত জরুরি।”
দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, আমরা আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী আল মুঈন ত্রাণ তহবিলে নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী প্রদান করে এই মানবিক উদ্যোগে শরীক হই। আমাদের সামান্য সহযোগিতাও একটি ক্ষুধার্ত মানুষের আহারের ব্যবস্থা করতে পারে, একটি অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফিরিয়ে আনতে পারে এবং বিপর্যস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আল্লাহ তা’আলার পথে ব্যয় কখনো বিফল যায় না; বরং তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে তার উত্তম প্রতিদানের অঙ্গীকার করেছেন।”
বিবৃতির শেষাংশে তিনি বন্যায় নিহত সকলের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আল্লাহ তা’আলার বিশেষ রহমত, সাহায্য ও উত্তম প্রতিদান কামনা করে দেশবাসীর নিকট দুআ প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রার্থনা করেন, তিনি যেন দেশকে সকল প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিপর্যয় ও অনিষ্ট থেকে হিফাযত করেন এবং আমাদের সবাইকে অসহায় মানুষের খিদমতে আন্তরিকভাবে আত্মনিয়োগ করার তাওফীক দান করেন। আমীন।

