জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল সড়কের তীব্র যানজটে নাকাল সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। সড়কটির পাশের ভবন ও ক্লিনিক গুলোতে অনুমোদিত নকশা ভেঙে পার্কিংয়ের জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা। ফলে বাধ্য হয়েই যানবাহন রাস্তা ও ফুটপাতে পার্ক করতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে পুরো শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায়।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত অধিকাংশ ভবনই বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC)-২০২০ গেজেট প্রকাশের পূর্বেই নির্মিত হয়েছে। তবে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখতে পায়, অধিকাংশ ভবনেই অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিংয়ের নির্ধারিত জায়গায় নকশা বহির্ভূত ভাবে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
কউক সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৫–২০২৬ অর্থ বছরে অনুমোদিত নকশা ব্যত্যয় করে ভবন নির্মাণ করায় ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২–এর বিভিন্ন ধারায় কউক শহর জুড়ে এ পর্যন্ত ৫৮৮টি ভবন মালিককে নোটিশ প্রদান করেছে। একই সময়ে ২১টি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং অবৈধ নির্মাণের দায়ে ভবন মালিকদের ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর কউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন (কক্সবাজার উন্নয়ন প্রথম কোন চেয়ারম্যান) এর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল সদর পৌরসভাস্থ আল ফুয়াদ ও সী সাইড নামের দুটি হাসপাতাল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেখানে পরিদর্শনের সময় পার্কিংয়ের স্থানে অবৈধ দোকানের বিষয়টি কউক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সদর হাসপাতাল সড়কের পাশে অবস্থিত বহুতল ভবন, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর নিজস্ব কোনো পার্কিং সুবিধা নেই। গাড়ি পার্কিংয়ের নির্ধারিত স্থানে দোকানপাট ভাড়া দেওয়ায় রোগী ও সাধারণ সেবা গ্রহীতাদের গাড়ি রাখতে হচ্ছে মুল রাস্তায়।
ফলে হাসপাতালের সামনে সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির জট লেগে থাকে। এতে করে মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছাতে চরম বিলম্ব হচ্ছে।
হাসপাতাল সড়কের এমন চরম যানজট নিরসন ও যাতায়াত সুগম করতে সচেতন মহল বলেন, পার্কিং পুনরুদ্ধার ও অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, যেসব ভবন মালিক নকশা বহির্ভূত ভাবে পার্কিংয়ের স্থানে দোকান বা অন্যান্য স্থাপনা তৈরি করেছেন, তা দ্রুত ভেঙে পার্কিং এলাকা মুক্ত করা। মোবাইল কোর্ট ও অভিযান জোরদার, হাসপাতাল সড়কে পার্কিং বিহীন ভবন ও ক্লিনিক গুলোর বিরুদ্ধে ইমারত নির্মাণ আইন অনুযায়ী অব্যাহত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও কঠোর জরিমানা আদায় করা। অনুমোদন ছাড়া ক্লিনিক-ভবনে নিষেধাজ্ঞা, ভবন নির্মাণ বিধিমালা বা BNBC কোড না মেনে নির্মিত ও পার্কিং সুবিধা না থাকা ক্লিনিক গুলোর লাইসেন্স বা সেবা কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করা যেতে পারে। সড়কে বেআইনি পার্কিং বন্ধ, হাসপাতাল সড়কের মূল রাস্তা ও ফুটপাতে অবৈধ গাড়ি পার্কিং বন্ধে ট্রাফিক পুলিশের কঠোর ভূমিকা ও সার্বক্ষণিক মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে ।
এ বিষয়ে কউক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতাল সড়কে নির্মাণ বিধিমালা অমান্য করা পার্কিং বিহীন ভবন ও ক্লিনিক গুলোর বিরুদ্ধে ইমারত নির্মাণ আইন ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলমান থাকবে। একই সঙ্গে যেসব ভবনের পার্কিংয়ের স্থানে দোকান করা হয়েছে, বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, জরিমানা আদায় ও তা ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


